বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম টানা তৃতীয়বারের মতো রেকর্ড কমেছে। গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে এ নিম্নমুখিতা লক্ষ্য করা গেছে। খবর এনজেড হেরাল্ড ও অ্যাগ্রিল্যান্ড।
জিডিটির সর্বশেষ নিলামে বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমেছে ১ শতাংশ। এর আগের নিলামে পণ্যগুলোর গড় মূল্যসূচক ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছিল। এ নিলামে মোট ১৫ হাজার ২০৯ টন দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি হয়েছে, যেখানে গড় মূল্য ছিল টনপ্রতি ৪ হাজার ৩৮৯ ডলার।
চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো বড় ক্রেতা দেশগুলো সম্প্রতি দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানি কমিয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্যপণ্যে সাশ্রয়ী বিকল্পের প্রতি ঝোঁক ও মজুদ বৃদ্ধির প্রবণতা কমে যাওয়া চাহিদা হ্রাসের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
এছাড়া নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু অঞ্চলে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দুধ উৎপাদন বেড়েছে। এতে বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
কয়েকটি বড় রফতানিকারক দেশের হাতে অতিরিক্ত মজুদ থাকায় তারা কম দামে পণ্য ছাড়ছে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে দাম কমছে। বাজার বিশ্লেষকরা জানান, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমার বড় কারণ।
ফন্টেরার (নিউজিল্যান্ডের খামারিদের মালিকানাধীন একটি বহুজাতিক ডেইরি প্রতিষ্ঠান) ফার্মগেট (কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ মূল্য) দুধের মূল্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ। জিডিটির সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে টনপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৪ হাজার ৮৪ ডলারে। এ সময় ফন্টেরার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেফারেন্স পণ্য ননিছাড়া গুঁড়া দুধের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে টনপ্রতি ২ হাজার ৭৭৫ ডলারে নেমে এসেছে।
জিডিটি নিলামে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৭ হাজার ২৭৬ ডলারে। মোজারেলা পনিরের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে টনপ্রতি মূল্য ৪ হাজার ৮০২ ডলারে নেমে এসেছে। এ সময় ল্যাকটোজের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ১ হাজার ৩২৩ ডলারে।
তবে সর্বশেষ নিলামে চেডার পনির ও মাখনের গড় মূল্য বেড়েছে। চেডার পনিরের দাম ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ৯৯২ ডলারে স্থির হয়েছে। এ সময় মাখন বেচাকেনা হয়েছে ৭ হাজার ৮৯০ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
প্রসঙ্গত, দুগ্ধপণ্য উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। দুগ্ধপণ্য দেশটির অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। কারণ দেশটির জিডিপির বড় একটি অংশ আসে দুগ্ধজাত পণ্য থেকে।